শিরোনামনারায়ণগঞ্জে রিয়া সরেন (১৯) নামে এক সাঁওতাল তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
IP NEWS BD
নীড়পাতা / জাতীয়, শিক্ষা / নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান চ...
জাতীয়

নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের

নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখাার জন্য জাতীয় রাজনৈতিক দলসমূহকে চিঠি পাঠিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। আজ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের দুই যুগ্মসমন্বয়কারী মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক ড.খায়রুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত রাজনৈতিক দলসমূহকে পাঠানো চিঠিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সহ ৫ দফা দাবীনামা দলসমূহের নির্বাচনী ইশতেহারে সন্নিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়। চিঠিটি ইতোমধ্যে বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ জাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি, জামায়াত সহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সমূহকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলসমূহকে পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনারা সকলে অবগত আছেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত বৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিসমূহ নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে স্বভাবতই বঞ্চিত থেকেছে এবং নিজেদের স্বকীয় শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিকাশের মাধ্যমে বহুত্ববাদী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সামিল হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। এমনি বাস্তবতায় দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে বিভিন্ন সরকারের সাথে ধারাবাহিক ২৬ বার বৈঠকের মাধ্যমে ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি যে, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পেরিয়েও এই চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়িত হয়নি এবং পার্বত্য সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাতময় পরিস্থিতি এখনো চলমান আছে যেখানে সেখানকার আদিবাসীরা ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

এমতাবস্থায় সাম্প্রতিক জুলাই ’২৪ এর গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সংহত ও সম্পূর্ণ করার জন্য এক সম্ভবনাময় সুযোগ তৈরী করেছে দাবি করে চিঠিতে আরো বলা হয়, তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার জায়গা তৈরী হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া আরো অধিক গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে। সেই প্রত্যাশার আলোকে আমরা আপনাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য সমস্যা সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকার রাখার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

উক্ত চিঠিতে নিম্নোক্ত ৫ দফা দাবির অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ইশতেহারে সন্নিবেশিত করার আহবান জানানো হয়। ৫ দফা দাবিসমূহ হল:-
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এই চুক্তির দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে;
২. পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান করতে হবে;
৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিকীকরণ ও স্থানীয় শাসন নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক যথাযথ ক্ষতায়ন করতে হবে;
৪. পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন’কে কার্যকরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উদ্ভাস্তু ও ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন করে তাঁদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;
৫. দেশের মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।